ট্রাম্পের যুগে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পথচলা: দ্বিধা, চ্যালেঞ্জ ও কৌশল

আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক, বহুদিন ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে তারা এক সংকটময় দ্বন্দ্বের মুখোমুখি, একদিকে জাতীয়তাবাদী ও ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে বৈশ্বিক স্বার্থ ও দায়িত্ব। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত ও একপাক্ষিক নীতিমালা এই দুই সংস্থার জন্য নতুন করে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আইএমএফের দায়িত্ব হলো বৈশ্বিক মুদ্রানীতির নিরীক্ষণ ও অনিয়মের বিপরীতে সতর্কতা প্রদান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে তারা প্রকাশ্যে কঠোর হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে ‘অত্যধিক অনিশ্চয়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা হ্রাসের পরেও সরাসরি কিছু না বলে জলবায়ু, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনিরপেক্ষ জ্বালানির কথা বলেন, যা ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে খাপ খায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকেই বোঝা গেছে, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। "প্রজেক্ট ২০২৫" নামের নীতিগত খসড়ায় এই সংস্থাগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এবং ট্রাম্প এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি হুমকি বাস্তবায়িত হয় না। যেমন, কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দৃঢ় অবস্থানে ট্রাম্পের হুমকি কার্যকর হয়নি। কিন্তু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের অবস্থান আরও জটিল, কারণ তারা বৈশ্বিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে।

এই সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অন্যান্য দেশের ভূমিকার ওপর। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র একা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি ব্যবস্থায়, যা বহু দেশের অর্থায়নে পরিচালিত হয়? পাশাপাশি, ব্যক্তি-সম্পর্কের রাজনীতিতে ট্রাম্পের গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতাও এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংককে মনে রাখতে হবে, তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়, বরং সেখানকার জনগণেরও অংশীদার। অতীতে মার্কিন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমর্থন তাদের অনেক উদ্যোগ সফল করেছে। এখনও যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় অংশ বিদেশি সহায়তাকে সমর্থন করে, যা তাদের নৈতিক অবস্থানকে শক্তি দিতে পারে।

সুতরাং, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের জন্য সময় এসেছে, যখন শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কখন সরব হতে হবে আর কখন কৌশলী, তা নির্ধারণে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগোতে হবে। কারণ, তাদের দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বের প্রতিও।

সুত্র: নাইরি উডস অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টের ডিন