কাশ্মীর প্রসঙ্গে আসিম মুনিরের মন্তব্য ঘিরে নতুন উত্তেজনা, পেহেলগাম হামলার প্রেক্ষাপটে বাড়ছে সন্দেহ

আন্তর্জাতিক
কাশ্মীর প্রসঙ্গে আসিম মুনিরের মন্তব্য ঘিরে নতুন উত্তেজনা, পেহেলগাম হামলার প্রেক্ষাপটে বাড়ছে সন্দেহ
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সাধারণত জনসমক্ষে আলোচনায় আসেন না। তবে সাম্প্রতিক এক বক্তব্য এবং ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পেহেলগামের ভয়াবহ হামলার পর তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন—শুধু পাকিস্তানেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও।

গত ১৭ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রবাসীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মুনির বলেন, ‘আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা।’ একই সঙ্গে তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জীবন সঞ্চারণী শিরা’ বলে উল্লেখ করেন এবং ভারতের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের লড়াইকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।

এই মন্তব্যের মাত্র পাঁচ দিন পর, ২২ এপ্রিল, কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন নিহত হন। যদিও হামলার সঙ্গে মুনিরের বক্তব্যের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবুও ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগ না করলেও সন্দেহ করছেন যে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য হয়তো সন্ত্রাসীদের মনোবল বাড়িয়ে থাকতে পারে।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জশুয়া টি হোয়াইট মন্তব্য করেছেন, “এটি নিছক কূটনৈতিক বাগাড়ম্বর নয়; মুনিরের বক্তব্য পাকিস্তানের আদর্শিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করলেও তিনি যে সুরে কথা বলেছেন, তা বিশেষভাবে উত্তেজনাকর।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বরে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুনির জনসমক্ষে খুব কমই বক্তব্য দিয়েছেন। তবে কাশ্মীর নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্য—যেমন মুজাফফরাবাদে ‘প্রয়োজনে ১০টি যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি—পাক-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার শঙ্কা তৈরি করছে।

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা দীর্ঘদিনের, আর আসিম মুনিরকে এখন দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর কথাবার্তা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।