কাশ্মীরে গুম ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঢেউ: আতঙ্কে গুজ্জার সম্প্রদায়

আন্তর্জাতিক
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সম্প্রতি গুম ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। গত ১৬ মার্চ কুলগাম অঞ্চলে পাওয়া যায় ১৮ বছর বয়সী শওকত আহমেদের মৃতদেহ। তাঁর চোখ রক্তাক্ত ছিল, চুল খসে পড়ছিল এবং হাত-পায়ের চামড়া উঠে যাচ্ছিল। তিন দিন পর তাঁর বড় ভাই রিয়াজ আহমেদের মৃত্যুর খবর আসে। তারা দু’জনই এক মাস আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন।

শওকত ও রিয়াজ গুজ্জার সম্প্রদায়ের মানুষ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি, তারা আত্মহত্যা করেছে এবং একটি নালায় ডুবে মারা গেছে। কিন্তু তাদের পরিবার ও স্থানীয়রা এ দাবি মানতে নারাজ। শওকতের বাবা মোহাম্মদ সাদিক অভিযোগ করেন, তাদের নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। একই সময় কাঠুয়া জেলা থেকে নিখোঁজ হয় আরও কয়েকজন, যাদের মধ্যে যুগেশ সিং (৩২), দর্শন সিং (৪০) এবং বরুণ সিং (১৫)-এর মৃতদেহ কয়েক দিন পর পাওয়া যায়। একই এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় মোহাম্মদ দিন ও রহমান আলি নামের দুই কিশোর, যাদের এখনো কোনো খোঁজ নেই।

কাশ্মীরে গুম ও নির্যাতনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। অ্যাসোসিয়েশন অব প্যারেন্টস অব ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পারসন্স (এপিডিপি)-এর মতে, ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।

২০২০ সালের একটি ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুজ্জার সম্প্রদায়ের তিন তরুণকে অপহরণ ও হত্যা করে ‘ভুয়া বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজানোর অভিযোগে চার্জশিট দাখিল হয়। আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে জামিনে মুক্ত হন।

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবিশ্বাস ও গুমের এই ধারাবাহিকতা কাশ্মীরি জনগণের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।