ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাদা প্রদেশে এক আটককেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৬৮ জন আফ্রিকান অভিবাসী নিহত হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৪৭ জন, যাদের বেশিরভাগের অবস্থা সংকটজনক।
আল মাসিরাহ জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে ১১৫ জন অভিবাসী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেনে এসেছিলেন। হামলার পর সেখানে উদ্ধার কাজ চলছে, এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মরদেহ পড়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ মার্চের নির্দেশনা ছিল, যার মাধ্যমে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা জোরদার করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত কিছুদিনে তারা হুতিদের ৮০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে শত শত হুতি যোদ্ধা ও নেতা নিহত হয়েছেন। তবে সেন্টকম এখনও এই নতুন হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট সত্ত্বেও, আফ্রিকান অভিবাসীরা এখনও ইয়েমেনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, এবং তাদের অধিকাংশই সৌদি আরবে পৌঁছাতে চায়। তবে সেখানে তারা শোষণ, সহিংসতা, এবং কঠিন যাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এদিকে, ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলার কারণে হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ সংগ্রহের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টকম। তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সরকার এবং ইরান এই হামলার ব্যাপারে বিভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
এ ঘটনার ফলে আরও একবার বিশ্বজুড়ে ইয়েমেনের মানবিক সংকট এবং অভিবাসী সঙ্কটের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।