বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করলে শাস্তি, আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টের রুল

আইন-আদালত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর আওতায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সংক্রান্ত একটি ধারার বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

রবিবার বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন।

‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে সংগঠনের সেক্রেটারি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসান এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান এবং রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মহাদ্দেস-উল-ইসলাম।

অধ্যাদেশের ৫ ধারার মাধ্যমে প্রবর্তিত ৯খ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারীর সঙ্গে দৈহিক বল প্রয়োগ ছাড়া যৌনসম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাদের মধ্যে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তবে তিনি সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, এই বিধান ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারীর সম্মতির অধিকার এবং সংবিধানের সমতা নীতির পরিপন্থী। কারণ, ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার সময় তা অপরাধ হিসেবে গণ্য না হলেও, পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় তা অপরাধে পরিণত করা হচ্ছে, যা আইনের দৃষ্টিতে অনুমাননির্ভর বিচার।

আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, সংশ্লিষ্ট নতুন ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, তা জানতে চেয়ে রুলে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।